মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোববার (১৭ মার্চ) ৩৩ মিনিটে ২১টি মর্টার শেলের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এপারের টেকনাফ সীমান্তের কয়েকটি গ্রাম। এদিন রাত সাড়ে ৯টার পর রাখাইন রাজ্যের জেলা শহর মংডু টাউনশিপের কিছুটা উত্তরে নাকপুরা এলাকায় হঠাৎ রাতে মর্টার শেল বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে।

রাখাইনের মংডুর উত্তরে নাকপুরা ও বলিবাজার এলাকায় সোমবার (১৮ মার্চ) মধ্যরাতে থেমে থেমে ২০-২৩টি মর্টার শেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে নাফ নদীর এপারে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালীসহ কয়েকটি এলাকাতে ভূকম্পন দেখা দেয়।

কয়েক দিন ধরে এসব গ্রামে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা অবস্থান নেন এবং সেখানকার সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) সেক্টর ও একাধিক সীমান্তচৌকিতে হামলা চালাচ্ছেন। সরকারি বাহিনীও তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরে আসা মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মংডু থেকে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিথুয়ে (আকিয়াব) যাতায়াতের মধ্যভাগে রাচিডং শহরের অবস্থান। রোববার রাতে এই শহরের পুরোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরকান আর্মি পাশের বুচিডং শহরটি দখলের চেষ্টা করছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, রাতের বেলায় বিকট শব্দের মর্টার শেলের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কুলালপাড়া, ডেইলপাড়া, হাঙ্গারডেইলসহ অন্তত ১৩টি গ্রাম।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রাখাইন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।

 

-পার্বত্য সময়