পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান বলেছেন, ব্রিটিশ আমলে আমরা বৈষম্যর শিকার হয়েছিলাম বলে পাকিস্তান বানিয়েছি। পাকিস্তান স্বাধীনের শুরুতে বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠীর সাথে বৈষম্য করেছিল বলে ২৪ বছরের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। তৎকালীন সরকার পাহাড়ের শান্তিপ্রিয়, বুদ্ধিজীবী কোনো মহলের পরামর্শ ছাড়া পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামের একটি বিতর্কিত চুক্তি করেছে। এ চুক্তি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল হলেও পাহাড়ের সাধারণ মানুষের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। তৎকালীন এ চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি-নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার ৩টি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এরপরও সরকারের কাছে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরছি। আমরা আজ ২০ দফা দিচ্ছি, ৮ দফা দিচ্ছি। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তিন পার্বত্য জেলার সকল শান্তিপ্রিয় মানুষকে এক দফা ঘোষণা করে পুরো পার্বত্যাঞ্চল অচল করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে রাঙামাটি জেলা শহরের কাঁঠালতলী এলাজায় দলটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্প্রতি গঠিত ৩টি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে সাধুবাদ জ্ঞাপন, পাহাড় থেকে সন্ত্রাস নির্মূল ও বিতর্কিত পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী মজিব বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি- বাঙালী সকলে শান্তিপ্রিয়। কিন্তু ৫ ভাগ মানুষ তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে। বিয়ে থেকে শুরু করে হাট বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোন কিছু বাদ রাখছে না। সন্তু লারমার সন্ত্রাসীরা এখন চাঁদার পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়িয়েছে। এখন বাঁচতে হলে পুনরায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন, সীমান্তে সড়কে বিওপি ক্যাম্প স্থাপন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির (পিজেএসএস) বিভ্রান্তিকর বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ, পাহাড়ের সর্বসাধারণের নামে শিশির চাকমার সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়।
​
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পিসিএনপি  জেলা কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার,  যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি জেলা কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সহ পিসিএনপি, পিসিসিপি পিসিজেপি ও পিসিএমপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি-নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে ৩টি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তবে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের এতদিন পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি এবং দেশবিরোধী অপশক্তির আধিপত্য কমেনি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

জেএসএস-এর বিভ্রান্তিকর বিবৃতির প্রতিবাদে জানিয়ে বলা হয়,  জেএসএস এখনো অস্ত্র ও সন্ত্রাস ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। পাহাড়জুড়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ সশস্ত্র অবস্থান বজায় রেখে শান্তিচুক্তির দোহাই দিয়ে তাদের প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা কেবল প্রহসন নয়, চরম প্রতারণামূলক। সম্প্রীতি পিসিজেএসএস'র শিশির চাকমার দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পিসিএনপি নেতারা বলেন, শিশির চাকমা পার্বত্য অঞ্চলের সর্বসাধারণের প্রতিনিধি নন। তিনি সত্য আড়াল করে জেএসএস-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন এবং সাধারণ জনগণ তার এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ সম্মেলন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে।

এছাড়া পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সর্বস্তরের মানুষের সুষম উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্বপদে বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়।