‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরিতে ৫ শতাংশ পাহাড়ি কোটাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাঙামাটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
পাহাড়ে বৈষম্য দূর হয়নি উল্লেখ করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুফল পাহাড়িরাও আশা করেছিল। 
তাদের দাবি, এক দেশে দুই নীতি কখনও থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে বন্যা পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। অথচ তিন পার্বত্য জেলায় একই দিনে তিনটি ধর্ষণের জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী নীলা চাকমা। এতে বক্তব্যে দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিপুল চাকমা, রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কিকো দেওয়ান, বিকাশ চাকমা, উক্রাসিং মারমা প্রমুখ। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা জিনেশিয়াম চত্বর থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় ব্যক্তিদের পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ, পাহাড়ে ভূমি সমস্যা সমাধান ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, শান্তির লক্ষ্যে পাহাড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পাহাড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজ নিজ মাতৃভাষা নিশ্চিত করা ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাহাড়ের শাস্তিমূলক বদলি বন্ধের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের আগে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে সরকারি চাকরিতে উপজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে মেধার ওপর জোর দিতে কোটা সংস্কার করে কিছু ক্ষেত্রে বাতিল ও কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ে উপজাতিদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়। পাহাড়ে বাঙ্গালিদের রেখে কেবল উপজাতি জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য এ কোটা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ।

-পার্বত্য সময়