চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে আশ্রয়শিবির ছাড়ছে রোহিঙ্গা শিশুরা। হচ্ছে নিরুদ্দেশ। জড়িত হচ্ছে
ভিক্ষাবৃত্তিতে। এদের কারো কারো আশ্রয় হচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়ক। যুক্ত হচ্ছে বাঙালি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সঙ্গে। নিয়ম না থাকায় শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রেও আশ্রয় হচ্ছে না এসব শিশুর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশ্রয়শিবিরের বন্দি ও অনিশ্চিত জীবন থেকে মুক্তি পেতে বড়দের মতোই কোমলমতি শিশুরাও বেরিয়ে আসছে নিরাপত্তা বেষ্টনি ফাঁকি দিয়ে। অজান্তেই নিজেকে হারিয়ে ফেলছে ওরা। কঠোর পরিশ্রম করে কেউ কেউ দু'মুঠো খাবার জোগাড় করলেও সবার আশ্রয় হচ্ছে সড়কে ।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ‘নতুন জীবন’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুমন শর্মা বলেন, কক্সবাজার শহরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে প্রায় ১০০ শিশুই রোহিঙ্গা। এই শিশুদের রাত্রী যাপন যেমন অনিশ্চিত, ঠিক তেমনি খাবারও অনিশ্চিত।
এই সংগঠক জানান, এসব শিশুরা শহরের কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, গাড়ির মাছ, সমিতি পাড়া, পেশকার পাড়া ও কবিতা চতুর এলাকায় অবস্থান করে। তাদের রাত কাটে ফুটপাত, মার্কেটের বারান্দা ও ভাঙ্গারির দোকানে। খাবারের টাকা যোগাড় করছে ভাঙ্গারি কুড়িয়ে আর ভিক্ষাবৃত্তি করে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাকার জন্যই মূলত রাস্তায় ভিক্ষা করছে তারা। ভিক্ষার টাকা অনেক সময় চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে।
১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু করিম উল্লাহ (ছদ্মনাম) জানায়, দুই বছর আগে চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা পরিবারের কাছ থেকে পালিয়ে শহরে চলে আসে সে। যুক্ত হয় শহরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে। প্রথম ৩-৪ দিন খারাপ লাগলেও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে পার করছেন জীবন।
ছয় মাস আগে ডিসের তার মনে করে বৈদ্যুতিক তার টান দিয়েছিল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ (ছদ্মনাম) নামে আরেক রোহিঙ্গা শিশু। এতে তার বাম হাতের কবজির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে দুইটি আঙ্গুল বেঁকে গেছে। চেকপোস্ট কীভাবে ফাঁকি দেয় এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, স্থানীয়দের মত পোষাক, কথাবার্তা আর চলাচল করতে পারলেই চেক পোস্ট ফাঁকি দেওয়া যায়। এছাড়া ধরা খেলে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। পরে আবার চেষ্টা করে চলে আসা যায়।
এই প্রসঙ্গে কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্নবাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের পূর্নবাসন কেন্দ্রে রাখার নিয়ম নেই। যদিও অনেক সংগঠন পথশিশুদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য পাঠায়। রোহিঙ্গা শিশুদের ফিরিয়ে দিতে খারাপ লাগলেও কিছু করার থাকে না। এই কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুগন্ধা পয়েন্টের নালায় পর্যটকের পড়ে যাওয়া মোবাইল তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মর্মান্তিভাবে মারা যায় লালু (১০) নামে এক রোহিঙ্গা পথশিশু।

