বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করার চক্রের খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে রোহিঙ্গারা নিজ নিজ পরিচয় লুকিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন।

উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মদ হারুন নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য ব্যবহার করে একজন রোহিঙ্গা যুবক পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১৫ এপ্রিল বিতরণের সময় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করলে ধরা পড়ে যে যুবক রোহিঙ্গা। পরে তাকে নগরীর ডবলমুরিং থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, এ ধরনের কায়দায় শুধুমাত্র এপ্রিল ও মে মাসে মোট ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সহজলভ্য হওয়ায় এই ধরনের জালিয়াতি সহজ হচ্ছে। জন্ম সনদ বা এনআইডি থাকলে যে কেউ পাসপোর্টের আবেদন করতে পারে। সন্দেহ হলে অফিসের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করতে পারেন, অন্য কোনো নিরাপদ প্রক্রিয়া নেই।

সংবাদমাধ্যম আমাদের সময়ের খবরে বলা হয়েছে- মনছুরাবাদ আঞ্চলিক পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, “রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বন্ধ করতে চাইলে প্রথমে জন্ম সনদ ও এনআইডি প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেসব আবেদন সন্দেহজনক, আমরা যাচাই-বাছাই করি। তবে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ডাকযোগে যোগাযোগ করা হয়, যা সব সময় ফলপ্রসূ হয় না।”

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই করার চেষ্টা করি। রোহিঙ্গাদের এনআইডি নিয়ে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। পাসপোর্ট সার্ভারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের লিঙ্ক স্থাপন করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি। অনলাইনে হলফনামা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত।”