পর্যটক ও স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত মেঘের রাজ্যখ্যাত সাজেকে খুব শিগগিরই একটি আধুনিক মানের ১০শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা করা হবে। সেখানে নির্মিত হবে একটি অত্যাধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক। এমন পরিকল্পনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত সাজেক দারুস সালাম জামে মসজিদের পাশে খালি জায়গায় খুব শিগগরই হাসপাতালটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাজেকে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকও নির্মাণ করা হবে।
সাজেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক সময় সাজেক থেকে পাশ^বর্তী খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হয়। এতে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লাগে। জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীর ক্ষেত্রে এই সময়টিই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং চিকিৎসার অভাবে অনেক আহত ব্যক্তি মারা যান। দুর্ঘটনাস্থল থেকে রোগী উদ্ধার করে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। এ কারণে সাজেকের কাছাকাছি একটি হাসপাতাল থাকলে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১০ শয্যার হাসপাতালটি মূলত সাজেক ও আশপাশের এলাকার মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, সাজেকে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এর সুফল মিলবে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাজেকের বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার এই অবকাঠামো স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, সাজেকে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। আহতদের দ্রুত সময়ে চিকিৎসা দিতে না পারায় অনেকে মারা যান। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুব শিগগরই একটি আধুনিক মানের ১০ শয্যার হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে। সাজেকে বসবাসকারী মানুষ এবং সেখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।


