সম্প্রতি বান্দরবানে ব্যাংকে হামলাসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে পাহাড়ে চলছে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান। এরই মধ্যে কেএনএফ-এর প্রধান সমন্বয়ক ও উপদেষ্টাসহ ৬২ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
অভিযানে ভীত বম সম্প্রদায়ের লোকজন পাড়া ছেড়েছেন। বেশিরভাগ বম পাড়া এখন জনশূন্য। এই অস্থিরতার মধ্যেই পাহাড়ে উদযাপন হচ্ছে সাংগ্রাই উৎসব। একদিকে বম পাড়া জনশূন্য হলেও অন্যদিকে পাহাড়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উৎসব চলছে ধুমধামের সঙ্গেই।
কেএনএফ নির্মূল করতে বান্দরবানে মোতায়েন করা হয় সেনা, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর বাড়তি জনবল। এছাড়া নামানো হয়েছে সাঁজোয়া বিশেষ যান। বর্তমানে পাহাড়ে কেএনএফের অবস্থান জানতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। অভিযানের আতঙ্কে বিভিন্ন পাড়ার বম সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো পাড়া ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে বেশিরভাগ বম পাড়াগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
একাধিক বম পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুকি চিনের সদস্যদের ধরতে অভিযানে অনেক নিরীহ মানুষও ধরা পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাই এসব অভিযান থেকে বাঁচতে অনেকেই স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এতে বম জনগোষ্ঠীর লোক অধ্যুষিত পাড়াগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। কয়েকটি বম পাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
তবে পাহাড়ে বাংলা নববর্ষ পালন কিংবা মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবে এর কোনও প্রভাব পড়ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকি চিনের সঙ্গে জড়িত বম সম্প্রদায় লোকেরা খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। আর সাংগ্রাই পালন করছেন বুদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের লোকেরা। যার কারণে আলাদা আলাদা পাড়ায় ভিন্ন পরিবেশে বিরাজ করছে। অভিযান চলছে বম অধ্যুষিত এলাকায়। আর সাংগ্রাই উদযাপন করা হচ্ছে মারমা অধ্যুষিত এলাকায়। যার কারণে এর কোনও প্রভাবই পড়ছে না সাংগ্রাই উৎসবে।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি মং মং সিং বলেন, আমাদের প্রধান এবং প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই। এবার আমরা আগের চেয়েও ঝাঁকজমকভাবে এ উৎসবটি পালন করছি। মারমা অধ্যুষিত এলাকায় কুকি চিনের কোনও প্রভাব নেই। যার কারণে সাংগ্রাই উৎসব পালন করতে আমাদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। আশা করছি আমরা সুন্দরভাবে আমাদের সামাজিক অনুষ্ঠানটি সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালন করতে পারবো।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, বান্দরবানের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে বড় ধরনের আতঙ্কের কিছুই নেই। দীর্ঘ ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকরা অনায়াসে আসতে পারবেন এবং ভ্রমণ করতে পারবে। রুমা এবং থানচি ছাড়া বান্দরবানের অন্যান্য উপজেলাগুলোতে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে ভ্রমণ করতে আমরা পর্যটকদের উৎসাহিত করছি।
তিনি বলেন, বান্দরবানে মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবটিও সকলে উপভোগ করতে পারবেন অনায়াসে। এখানে কুকি চিন সন্ত্রাসীদের কোনও প্রভাব নাই। তারপরও আমরা বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি।
- - পার্বত্য সময়

