রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল। একই কারণে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রবিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সরকারিভাবে ডিপো থেকে তেলের রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও পাম্পে জ্বালানি না থাকায় নৌযান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতায় রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম নৌপথ। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে নৌযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নৌযান মালিকরা।

সাধারণত রাঙামাটি থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশ্যে ১২ থেকে ১৫টি যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল করে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে রবিবার সকাল থেকে একটি স্পিডবোটও ছাড়েনি।

শহরে পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও দুটি পাম্প থাকলেও কোথাও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তেলের সংকটের কারণে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে সমস্যা।

রাঙামাটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটের এক কর্মচারী বলেন, রাঙামাটি থেকে লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় স্পিডবোট চলাচল করে। কিন্তু অকটেন না পাওয়ায় সকাল থেকে কোনো বোট ছাড়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। 

অন্যদিকে রাঙামাটি অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, সাধারণত ঘাটের পাম্পগুলো থেকেই লঞ্চের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরে বিভিন্ন পাম্প থেকে ড্রামে করে তেল সংগ্রহ করে লঞ্চ চালানো হলেও এখন পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়, যা দিয়ে প্রায় ৪০টি লঞ্চ চলাচল করে। ঈদ সামনে থাকায় এই চাহিদা আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে। খুচরা দোকানগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। লঞ্চ, স্পিডবোট ও পর্যটকবাহী বোট যাতে চলাচল করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে অবৈধ মজুতের অভিযোগ পাওয়ায় তা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।