উপজাতিদের 'আদিবাসী' হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানসহ আট দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে “মার্চ ফর আইডেন্টিটি”কর্মসূচি পালন করেছে উপজাতি শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজাতি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। পরে চেঙ্গী স্কয়ারে সমাবেশ করে তারা।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিসহ সব গ্রেডের চাকরিতে ৫% আদিবাসী কোটা বহাল রাখার দাবি জানান। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কারে 'আদিবাসিদের' মূল্যায়ন, স্ব-স্ব জাতিসত্তার স্বীকৃতিসহ 'আদিবাসী' হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, পাঠ্যপুস্তকে 'আদিবাসীদের' সঠিক ইতিহাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত, পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ১৯০০ সালের পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জিইয়ে রেখে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের আখড়া বসিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। বক্তারা পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগের দাবি জানান। জেলা পরিষদের নির্বাচন দেওয়া না হলে ছাত্র-জনতা পরবর্তী কর্মসূচি দেবে বলে সরকারকে সতর্ক করেন তারা।
চাকরির ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয়দের পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবির পাশাপাশি সমাবেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও করেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে ফুটন্ত চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রিপুল চাকমা, ক্যসিং মারমা, প্রণয় চাকমা, কৃপায়ন ত্রিপুরা, মংসাই মারমা।
-পার্বত্য সময়

