বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও লুটের ১৬ ঘণ্টার মাথায় এবার এবার থানচি সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে এসে থানচি বাজারের সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা করে। বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের নজরে এলে তারা প্রতিহতে এগিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে এবং বাজারের লোকজন থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।বান্দারবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান আল কাদেরি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, একদল অস্ত্রধারী হামলা চালিয়েছে। তবে এটা ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলা কিনা সেটা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে লুট করে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। নেটিজেনরা মনে করছেন শান্তি বৈঠকের সুযোগে ‘কেএনএফ’ পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে এবং রুমার পর আজকে থানচিতে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টার ঘটনার পিছনে গভীর কোন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা থাকতে পারে।
এ ঘটনায় রুমা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল জানান, কেএনএফের শতাধিক সদস্য এসে বাজারের মসজিদ ও ব্যাংক ঘেরাও করে ব্যাংক লুট করে এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র লুট করে। এসময় সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন, পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান, সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম বিভাগের জিএম ও মুসা খান।
- পার্বত্য সময়

