বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে রাষ্ট্রায়ত্ত দুই ব্যাংকের তিন শাখায় ডাকাতির ঘটনায় আলোচনায় আসে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে এ সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যই গা-ঢাকা দেয়, এমনকি তাদের বড় সংখ্যার দেশ ত্যাগেরও খবর পাওয়া যায়। এরই মধ্যে নিজেদের ফেসবুক পেজে শক্তিমত্তা নিয়ে আবারও হুমকি দিয়েছে কেএনএফ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা এক পোস্টে তারা দাবি করেছে ৫’শ এর অধিক কেএনএফ সদস্য কমান্ডো প্রশিক্ষণে প্রস্তুত।
ওই পোস্টে বলা হয়, ‘মিয়ানমারে একটি প্রদেশে ৫ শত জনেরও বেশি কমান্ডো প্রশিক্ষণে পাড়ি জমাতে প্রস্তুত কেএনএ’র নতুন রিক্রুটরা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে- ’
মূলত বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বতের আশপাশের পাহাড়ে কুকি-চিনের আস্তানা। তবে তাদের অধিকাংশ সদস্য বর্তমানে ছদ্মবেশে মিশে আছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে। চাঁদাবাজি-লুটপাটসহ বিভিন্ন অপকর্মের লক্ষ্যে স্বল্প সময়ের জন্য লোকালয়ে এলেও কাজ শেষে দ্রুতই ফের আস্তানায় ফিরে যায় সশস্ত্র এসব সন্ত্রাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু মিয়ানমার নয়, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যরা প্রশিক্ষণ নেয় ভারতেও। কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস। এর মধ্যে এক মাস ভারতের মিজোরামে তাত্ত্বিক ও শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাকি দুই মাস মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের সঙ্গে মিয়ানমার আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কেএনএফের দাবি, বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে ২০১৭ সালে সশস্ত্র শাখায় রূপ নেয় কেএনএফ। প্রথম অবস্থায় সশস্ত্র শাখাটির নাম রাখা হয় কুকি-চিন ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার বা কেএনভি। এই কেএনভি কয়েক বছর গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী সময়ে ভারতের মণিপুর এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
২০১৭ সালে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের কয়েকশ সদস্যকে ভারতের মণিপুর রাজ্যে সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে শতাধিক সদস্য মিয়ানমারের কাচিন, কারেন প্রদেশ এবং ভারতের মণিপুর রাজ্যে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। ২০১৯ সালে ইনফেন্ট্রি কমান্ডো প্রশিক্ষণ শেষে কয়েকশ সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় ফিরে আসে। এরপর তারা গোপনে তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকে বলে দাবি সংগঠনটির।
নতুন করে এ ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পর পাহাড় অনেকটাই এখন শান্ত। সেনা বাহিনীর প্রচেষ্টায় তাদের তৎপরতা কমেছে। এই মুহুর্তে এ ধরণের ঘোষণা নতুন করে হামলার প্ল্যানকেই নির্দেশ করে। তবে এমনও হতে পারে, সংগঠনের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে অথবা আলোচনায় থাকতেও তারা এমন বক্তব্য প্রচার করে থাকতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাহাড়ের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  এক  কর্মকর্তার দাবি, এ ধরণের ঘোষণা দিয়ে তারা একসাথে দুটি কাজ করতে চাইছে। এক. এই এলাকায় অস্থিরতা বজায় রাখতে চাইছে। দুই, নিজেদের সদস্যদের বার্তা দিতে চাইছে- তারা এখনও দমে যায়নি। তবে তার পরামর্শ, এটা কেএনএফ এর ফাঁকা বুলি বলে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন হবে না। যেহেতু অতীতেও তারা মিজোরাম ও মিয়ানমারের মতো জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং দেশে ফিরে হামলা চালিয়েছে।

-পার্বত্য সময়