খাগড়াছড়িতে গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও জেলার দীঘিনালা উপজেলার কবাখালি, মেরুং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) থেকে জেলার পানছড়ির চেঙ্গি ইউনিয়নের চেঙ্গি নদীর দুই পাশের ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি ডুবে গেছে। মহালছড়ির উপজেলার ২৪ মাইল এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও অতিভারী বৃষ্টির কারণে জেলার কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোথাও বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খাগড়াছড়িরর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সেখানাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যায়।  
সদর উপজেলা: অতি বৃষ্টির ফলে চেঙ্গী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি সদরস্থ মেহেদীবাগ, পৌর নিচের বাজার, উত্তর ও দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, ইসলামপুর, খবংপুড়িয়া ও বাস টার্মিনাল এলাকা প্লাবিত হয়। এতে উক্ত এলাকাসমূহের আনুমানিক ৫০০ থেকে ৫৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অতি বৃষ্টিপাতের কারণে খাগড়াছড়ি সদরস্থ শালবাগান এলাকায় পাহাড়-ধ্বসে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে অভ্যন্তরীণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং মধুপুরস্হ সুইস গেইট এলাকায় রাস্তা ভাঙ্গণে সাতভাইয়া পাড়া টু মধুপুর যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোকজন অবস্থান নিচ্ছে।
দিঘীনালা উপজেলা: অতি বৃষ্টির ফলে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার দিঘীনালা ইউনিয়ন, মেরুং ইউনিয়ন, কবাখালী ইউনিয়ন, বোয়ালখালী ইউনিয়ন এবং বাবুছড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসমূহ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বর্ণিত এলাকাসমূহের ৩৪০ থেকে ৩৫০ টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীঘিনালা টু বাঘাইহাট এবং দীঘিনালা টু লংগদু রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দিঘীনালা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ২১ টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা: অতি বৃষ্টিপাতের ফলে মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন ১ নং তাইন্দং ইউনিয়ন এর তাইন্দং ছড়া, বাজার টিলা, মাঝপাড়া, হেডম্যান পাড়া, আচালং, ২ নং তবলছড়ি ইউনিয়নের সিংহ পাড়া, নোয়া পাড়া এবং ৩ নং বড়নাল ইউনিয়ন এর নিচু এলাকার বসতবাড়ি রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে ১২০/১৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 
মহালছড়ি উপজেলা: অতি বৃষ্টির কারণে মহালছড়ি উপজেলার আওতাধীন ধুমনীঘাট ড্রাগন বাগান এলাকার মেইন রোডে ফাটল ধরায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 
পানছড়ি উপজেলা: অতি বৃষ্টির কারণে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানছড়ি পুরাতন বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, জিরো পয়েন্টসহ আশেপাশের বাড়িঘর, ফসলি জমি প্লাবিত হযয়েছে। পানছড়ি টু লোগাং সড়কের কানুনগো পাড়া নামক এলাকায় পাহাড় ধ্বসে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী কর্তৃক  মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। 
সাজেক ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটি: অতিবৃষ্টির কারণে সাজেক কাচালং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মাচালং ব্রীজ তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক টু বাঘাইহাট রোডে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বিধায় সাজেকে ২৮০ জন পর্যটক আটকা পড়েছে। 
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন হতে মানবিক সহায়তা হিসেবে সকল উপজেলা প্রশাসনকে ত্রাণ সামগ্রী এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্হাস্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়