বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। পাচারকারীরা প্রায়ই উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে সাগরপথে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থীবোঝাই কাঠের একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটিতে প্রায় ১৫১ আরোহী ছিল বলে জানা গেছে। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন মতে, নৌকাডুবির ঘটনায় ৭৫ জনকে স্থানীয় জেলে এবং একটি উদ্ধারকারী দল মিলে উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ, ২২ নারী ও ৯টি শিশু। এই ঘটনায় অনুসন্ধানকাজের সমাপ্তি টানার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এশিয়া অঞ্চলের মুখপাত্র বাবর বেলুচ বলেন, নৌকাটিতে ১৫১ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। তাদের মধ্যে ৭৫ জন আচেহ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করেছে। বাকিরা ‘মৃত অথবা নিখোঁজ’বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন। তারা মিয়ানমারে বিভিন্ন সময়ের সংঘাত-সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের কুখ্যাত সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। শরণার্থী শিবির ছেড়ে যাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত বছর ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন। যা আগের চার বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে ইউএনএইচসিআর জানায়, গত বছর মিয়ানমার কিংবা বাংলাদেশ থেকে পালাতে গিয়ে অন্তত ৫৬৯ জন রোহিঙ্গা মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।
 

-পার্বত্য সময়