আরাকান আর্মির সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রাখাইন জনগণের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মানুষ অনুভব করছে বলে মন্তব্য করেছেন আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) নেতা ড. আইয়ে মং।

গত ১০ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, থুরিয়া নে উইন জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. আইয়ে মং এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ১০২৭ অভিযানের পর থেকে রাখাইনে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। থান্দুয়ে, তাউংগুপ, গওয়া ও আন এলাকার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিয়াউকফিউ থেকে গওয়া পর্যন্ত এবং ইয়াঙ্গুনে অবস্থানরত অনেক রাখাইনও মনে করছেন, এই সংঘাত তাদের পুরো সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।’

ড. আইয়ে মং আরও বলেন, ‘মানুষ এখন নিজেদের এলাকায় ফিরে যেতে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়তে চায়। অধিকাংশ রাখাইন জনগণের ইচ্ছা হলো যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক। তারা এএ’র পক্ষে থাকুক বা না থাকুক, সবাই শান্তি চায়।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক কারণে যে সব সশস্ত্র সংঘাত তৈরি হয়েছে, সেগুলোরও অবসান দেখতে চায় রাখাইনের মানুষ। একই সঙ্গে বার্মিজ জনগণের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকেও সমর্থন করতে প্রস্তুত রাখাইন জনগণ।

এএ’র সামরিক অগ্রগতির বিষয়ে ড. আইয়ে মং মন্তব্য করেন, ‘১০২৭ অভিযানে আরাকান আর্মি কিয়াউকফিউ, মানাউং ও সিত্তে—এই তিনটি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। যদি তারা পুরো মাদাই দ্বীপ ও কিয়াউকফিউ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারত, তাহলে সেটি পুরো রাখাইন রাজ্যের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করত। কিন্তু সামরিকভাবে তারা তা করতে পারেনি।’

তার মতে, রাখাইনে এএ’র সামরিক অগ্রযাত্রা বর্তমানে অনেকটাই থেমে গেছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়েছে—এমন দাবি করাও কঠিন।

ড. আইয়ে মং আরও বলেন, ‘আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মানুষের কণ্ঠস্বর এখন প্রায় শতভাগ শান্তির পক্ষে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অবস্থা কী, তা আমরা জানি না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তির আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’