মিয়ানমারে জারি থাকা জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিলম্বে হলেও নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জান্তা সরকার। খবর এএফপির।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভির খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিল মিং অং হ্লেইংয়ের অনুরোধে দেশের জরুরি অবস্থার সময় বাড়ানো হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলমান জরুরি অবস্থা জানুয়ারির শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার জান্তা পরিচালিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল জাতির অবস্থা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠক করে। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, দেশ এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।
মিয়ানমারে সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান তৃতীয় বছরে পড়ল আজ। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির দলকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী। এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ দেখা দিলে জান্তা বাহিনীর দমনপীড়নে তাতে বহু বিক্ষোভকারী নিহত হন।
গত কয়েক মাসে জান্তা শাসনবিরোধী মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি এলাকা দখলে নিয়েছে। জোট গঠন করে বিদ্রোহীদের এসব সমন্বিত আক্রমণ কিছুতেই প্রতিহত করতে পারছে না সামরিক বাহিনী। একটু একটু করে এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।
গত অক্টোবর থেকে বিদ্রোহী জোট ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে জান্তা শাসনপন্থিরাই হ্লাইংয়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনলাইনে জান্তাপন্থি সাংবাদিক এবং ব্লগাররাও ওপরের ভিক্ষুর মতো একই কথা বলছেন।
এদিকে বার্মা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানায়, মিয়ানমারের যুদ্ধকবলিত রাখাইন রাজ্য ছাড়ছেন জাতিসংঘের স্টাফ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওর কর্মীরা। একটি এনজিওর মাঠকর্মী জানান, জাতিসংঘ ও তাদের কর্মীরা রাখাইনে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যুদ্ধ-সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় তারা এলাকা ছাড়ছেন।
-পার্বত্য সময়

