সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা সেনারা রাখাইনের আরাকান আর্মির হাতে ধরাশায়ী হয়ে একে একে পরাজয়ের শিকার করছেন। এছাড়াও জান্তা বাহিনীর হাত থেকে পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে আরাকান আর্মির (এএ) এক সপ্তাহের কম সময় লাগতে পারে এমন মন্তব্য করে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন মিয়ানমারের থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স।

রাখাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নারিনজারা নিউজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ঘোষণায় বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে দেশটির জান্তা বাহিনীর সদস্যরা শিগগিরই আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। জান্তা সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে আরাকান আর্মি। কয়েক দিন মধ্যেই রাজ্যটিতে জান্তাদের সব ক্যাম্প দখল করতে সক্ষম হবে। সেখানে আর মাত্র ১০০ জনের মতো জান্তা সেনা অবস্থান করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাখাইনে সামরিক বাহিনীর ছোট-বড় যত ক্যাম্প আছে, তার প্রায় সবগুলোই এখন আরাকান আর্মির দখলে। এসব ক্যাম্পের জান্তা অনুগতরা শিগগিরই আত্মসমর্পণ করবেন। এর বাইরে যেসব ক্যাম্প এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির অভিযান অব্যাহত আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা অবশিষ্ট সামরিক ক্যাম্পগুলো দখল করতে পারে।

অন্যদিকে, জান্তা সেনাদের আবারও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করেছি, রাখাইন অঞ্চলজুড়ে বেশ কয়েকটি ঘটনায় জান্তা কমান্ডারদের কারণে অনেক অধস্তন সেনারা আত্মসমর্পণ করতে পারছে না। তাদেরকে আবারও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিদ্রোহীদের দলে যোগদানকারী জান্তার দলছুট সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন লিন হটেট অং নারিনজারা নিউজকে বলেছেন, ‘জান্তা সেনাদের মনোবল কমে যাচ্ছে। তারা আর সম্মুখ লড়াইয়ে ইচ্ছুক নয়।’

এ ছাড়া আরাকান আর্মির অগ্রগতি ঠেকাতে মা-ইর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু জান্তা বাহিনী ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এ ছাড়া পিছু হটার সময় জান্তা বাহিনীর এলোপাতাড়ি গোলাবর্ষণে বেশ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মা-ই শহরের একটি উচ্চবিদ্যালয়ও ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

-পার্বত্য সময়