ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে কর্মসূচি শুরু হলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এ ঘটনায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন শহরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, রোববার (১৯ জুলাই) দিল্লি পুলিশ ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল বা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় দিল্লি পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকা ছাড়া কোনো ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।

ককরোচ জনতা পার্টি গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিবাদে ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপের নেতৃত্বে গঠিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের একাংশের সমর্থন পায়।

এদিকে, গত শনিবার অনশনরত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পুলিশ যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

সূত্র: এনডিটিভি