ভারত মহাসাগরে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া বাংলাদেশি জাহাজটির অবস্থান বারবার বদল করছে জলদস্যুরা।
মঙ্গলবার(১২ মার্চ) জলদস্যুরা জাহাজটির দখল নেয়ার পর নোঙ্গর করার পরও অন্তত তিনবার স্থান বদলেছে এমভি আব্দুল্লাহ। জলদস্যুরা বর্তমানে জাহাজটিকে সরিয়ে সোমালিয়ার গদবজিরান উপকূলে নোঙ্গর করেছে।
জাহাজটির মালিকপক্ষ ধারণা করছে,জলদস্যুদের যে গ্রুপটি জাহাজটি ছিনতাই করেছে তারা হয়তো ছোট একটি গ্রুপ। তারা কিছু টাকা পয়সার বিনিময়ে এটি বড় গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করবে। সেই গ্রুপই মুক্তিপণ নিয়ে দরবার করবে।
হয়তো এ কারণেই জলদস্যুদের পক্ষ থেকে যোগাযোগে দেরি হচ্ছে বলে তারা ধারণা করছেন।
মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন, “এই জলদস্যুরা মূল প্লেয়ার না। মূল প্লেয়ার শুটেট বুটেড। ওরা অফিস নিয়ে বসে আছে কোন না কোন জায়গায়। তারাই হয়তো আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে”।
জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার পর থেকে স্যাটেলাইট ইমেজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটির সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে খোজ খবর রাখছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ)।
সংগঠনটির সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী শনিবার সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “বৃহস্পতিবার জাহাজটি যেখানে নোঙর করা হয়েছিল শুক্রবার (১৫ মার্চ) সেখান থেকে ৪৫-৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তর দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটির অবস্থান সোমালিয়ার গদবজিরান শহর থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে।''

এদিকে, ঐ জাহাজটিতে থাকা সশস্ত্র জলদস্যুদের একটি ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) চার জলদস্যুর সশস্ত্র অবস্থানের ঐ ছবি প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধার পর জিম্মি নাবিকদের সাথে পরিবারের আর কোন যোগাযোগ হয় নি বলে তাদের পরিবারে সদস্যরা জানিয়েছেন।
জাহাজটিতে জিম্মি চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের ছোট ভাই মোহাম্মদ আসিফ খান শনিবার (১৬ মার্চ) বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় জাহাজে থাকা স্যাটেলাইট ফোন দিয়ে কল করেছিলো ভাইয়া। তখন দেড় মিনিটের মতো কথা হয়েছে। এরপর আর আমরা তার সাথে যোগাযোগ করতে পারি নি”।
এদিকে,জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপ আশা করছে, খুব তাড়াতাড়ি জলদস্যুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবে।
কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজর মিজানুল ইসলাম জানান, এই ধরনের পরিস্থিতিতে জলদস্যুরা একটা নিরাপদ স্থান খুঁজে তারপর যোগাযোগ শুরু করে মালিকপক্ষের সাথে। একই সাথে পরিবারের সদস্যদের সাথেও তারা কথা বলার সুযোগ দেয়।
মি. ইসলাম বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত জলদস্যুদের কাছ থেকে কোন ধরনের অফার না পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। কিন্তু দস্যুদের পক্ষ থেকে এখনো কোন ধরনের অফার পাওয়া যায় নি”।
-পার্বত্য সময়

