সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার মতো প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো পুরুষকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এমনকি দেশের বাইরে কাজ করতেও যেতে দিচ্ছে না। সম্প্রতি দেশ ছেড়ে পালানোর প্রবণতা বেড়েছে মিয়ানমারের তরুণসহ যে কোনো বয়সের পুরুষদের মধ্যে। পুরুষদের দেশত্যগ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়ে জান্তা। খবর বিবিসির।
গত অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের জাতিগত বিদ্রোহী তিনটি গোষ্ঠীর জোট সমন্বিতভাবে অভিযান শুরুর পর দেশটির সেনাবাহিনী চাপে পড়ে। এমন অবস্থায় সেনাবাহিনীতে জনবল বাড়াতে গত ফেব্রুয়ারিতে বাধ্যতামূলক যোগদানের আইন কার্যকর করে জান্তা। আইন অনুসারে, দেশটির ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী সব নারীকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আইনটি কার্যকরের পর ইয়াঙ্গুনে বিভিন্ন দূতাবাসের সামনে হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়। কেউ কেউ আবার আইনটি থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে পালিয়ে যান।
মিয়ানমারের শ্রম মন্ত্রণালয় বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক পুরুষদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে জান্তার তথ্য দল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিদেশে কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মিয়ানমারের অনেকেই থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে কাজ করতে যেত।
জান্তাপন্থী বিভিন্ন টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত তথ্য বলছে, বাধ্যতামূলক যোগদানের আইন কার্যকরের পর সেনাবাহিনীতে প্রথম ধাপে নিয়োগ পাওয়া কয়েক হাজার সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
ওই মুখপাত্র আরও বলেছেন, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ সেনাবাহিনীতে যোগদানের উপযোগী। তবে বছরের ৫০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা আছে সেনাবাহিনীর।
২০২১ সালের একটি অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চি’র সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে জান্তা। ক্রমশ তা পূর্ণ-বিকশিত গৃহযুদ্ধে রূপ লাভ করেছে।
জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিহত এবং কমপক্ষে ২৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
-পার্বত্য সময়
পুরুষদের বিদেশে কাজের আবেদন নিষিদ্ধ করেছে মিয়ানমার জান্তা সরকার
সম্প্রতি দেশ ছেড়ে পালানোর প্রবণতা বেড়েছে মিয়ানমারের তরুণসহ যে কোনো বয়সের পুরুষদের মধ্যে। পুরুষদের দেশত্যগ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়ে জান্তা।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
৫ মে, ২০২৪ ২:০০ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

ছবি সংগৃহীত
