সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়ে ওঠা লড়াইয়ের মধ্যে কাচিন রাজ্যের শ্বেগু শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর সময় ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন।
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী ট্যাকটিক্যাল র্যাপ্টর ২.০ পেজের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিও বার্মা ভিজেকে (বিবিজে) নিশ্চিত করেছেন, এসব বোমা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমানবাহিনী ব্যবহৃত ক্লাস্টার বোমা।
খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত পাঁচটি যুদ্ধবিমান দিয়ে শ্বেগু শহরে সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে। গত রাতে রেলেই ও সিংতাত গ্রামে এবং আজ দিনের বেলায় শ্বেগুর জিনবোন গ্রামের কাছে ইরাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
আরাকান আর্মি (এএ) গত ৮ মে জানিয়েছিল, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইন রাজ্যের মিনবিয়া ও কিয়াউকতাও টাউনশিপের কয়েকটি গ্রামেও সামরিক বাহিনী ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
আরাকান আর্মির দাবি অনুযায়ী, ৭ মে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে মিনবিয়া টাউনশিপের কিয়াউক হটক গ্রামের দক্ষিণ-পূর্বে কিনমোন চাউং জাই ও এর আশপাশের এলাকায় দুটি যুদ্ধবিমান এবং একটি ওয়াই-১২ বিমান দিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমাটির লেজের পাখা থেকে সামনের অংশ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট ৭ ইঞ্চি। এর মূল কাঠামো তিনটি বাঁকানো ধাতব পাত জোড়া দিয়ে লম্বাটে নলাকার আকৃতিতে তৈরি। এর ভেতরে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারের আকারের প্রায় ১০টি বিস্ফোরক বোমা বা সাবমিউনিশন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোও মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এসব ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে বলে নথিবদ্ধ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ক্লাস্টার মিউনিশন কোয়ালিশন (সিএমসি) এবং ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মিউনিশন মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চিন, কায়াহ (কারেন্নি), কারেন ও শান রাজ্যে বিমান হামলায় স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা শিল্প অধিদপ্তর (কা পা সা) কর্তৃক উৎপাদিত বলে ধারণা করা বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্লাস্টার বোমার ভেতরে বড় একটি বোমার মধ্যে একাধিক ছোট বিস্ফোরক সাবমিউনিশন থাকে। আকাশে বড় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়ে এসব ছোট বোমাকে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে দেয়, যা পরে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরিত হয়। এর কিছু সাবমিউনিশন সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে বা জনবসতির আশপাশে পড়ে থাকতে পারে এবং স্থলমাইনের মতো দীর্ঘদিন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব অবিস্ফোরিত বোমা দীর্ঘমেয়াদি প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া ১২৩টি দেশ স্বাক্ষর করা কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস অনুযায়ী ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার, উৎপাদন ও মজুত নিষিদ্ধ।
মিয়ানমার এখনো এই কনভেনশনে স্বাক্ষর বা এতে যোগ দেয়নি। তবে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে বা তাদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে-এমন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসাধনকারী অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের তদন্তকারী সংস্থাগুলো কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।


