মিয়ানমার সরকার দক্ষিণ আরাকান রাজ্যে (রাখাইন) প্রবেশের চেষ্টা জোরদার করেছে। এ লক্ষ্যে আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চল হয়ে স্থল অভিযান ও বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে বলে সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
মিয়ানমারের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দক্ষিণ আরাকানের গওয়া ও থানদওয়ে এলাকায় নগাপালি ও কিয়েন্টালি সমুদ্রসৈকতের কাছে অন্তত ছয়টি নৌযান মোতায়েন করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এসব নৌযানের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক নৌযান রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় গ্রামগুলোতে রাতে ড্রোন দিয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এক সামরিক সূত্রের বরাত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আয়েয়ারওয়াদি ও ইয়েকি এলাকা থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কয়েকটি সামরিক কলাম গওয়া-নগাথাইংচাউং সড়ক ধরে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাতের বেলায় উপকূলবর্তী গ্রাম এবং ইয়েকি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গত জুলাই থেকে গওয়া ও থানদওয়ে টাউনশিপে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে জান্তা বাহিনী। এর পাশাপাশি আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চল হয়ে স্থলপথে দক্ষিণ আরাকানে প্রবেশের চেষ্টা এবং সমুদ্রপথে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে।
সামরিক সূত্রগুলো বরাত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলের শ্বে থাউং ইয়ান এলাকায় অবস্থানরত মিয়ানমার বাহিনীর ১০১তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের একটি কলাম ওয়েটথে গ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সামরিক বাহিনী থেকে পালিয়ে আসা ক্যাপ্টেন জিন ইয়াও বলেন, দক্ষিণ আরাকানের গওয়া টাউনশিপের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে সেনারা। ব্যাপক বিমান হামলার পর স্থলবাহিনীকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তাউংআপ ও থানদওয়ে এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। গওয়া টাউনশিপের সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের কারণে তীব্র স্থল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে মিয়ানমার বাহিনীর বাড়তি বিমান ও নৌ তৎপরতার জেরে গওয়া, থানদওয়ে ও তাউংআপ টাউনশিপে কারফিউ জারি করেছে আরাকান আর্মি (এএ)। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এসব এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্থল, আকাশ ও সমুদ্র-তিন দিক থেকেই বিপুল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আরাকান রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সরকার।


