নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৪৬৯ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯ হয়েছে। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৭২ জনে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এ দুর্যোগে শত শত বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে তিব্বতেই ৫৫০ জনের বেশি মানুষ রয়েছেন।

এদিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালানো উদ্ধারকারীরা উদ্বিগ্ন ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন রেডক্রসের এক কর্মকর্তা।

চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে পানি বেড়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়লে নতুন করে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসির বেইজিং প্রতিনিধি লরা বিকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুর্যোগের কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে।

এর ফলে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে ভাটির দিকে নেমে আসে। এতে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে।

উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।