মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের ওপর হামলা শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা শুরুর পর পরই ইরানের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটলো।
চলমান সংঘর্ষ বৃদ্ধির শঙ্কা থেকেই মূলত একদিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে হয়েছে। ইরান বৃহস্পতিবার তুরস্কগামী একটি ট্যাঙ্কারকে ওমানের উপকূল থেকে আটক করে। ওই রুটটি তেল সরবরাহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট।
হরমুজ প্রণালীর এ রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের প্রায় পঞ্চমাংশের সমান। লোহিত সাগরে জাহাজে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা শুরুর পর এ পথে বাণিজ্য হুমকিতে পড়েছে। ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে জ্বালানীসহ অন্যান্য পণ্যের দাম।
আর তেলের দামের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, যদি ইরান সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কারণ বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে ইরান।
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা,
ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, রিপাবলিক অফ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কোয়ালিশন জোট।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক জোটের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কানয়ানি তাদের হামলাকে স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করেন। আর এরইমধ্যে রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি ইয়েমেনে মার্কিন হামলা বিষয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
-পার্বত্য সময়

