মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা ও অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ধানখেত। বিশেষ করে নিচু এলাকার জমিগুলোতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ধানগাছ নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে ফসল হারাচ্ছেন কৃষকেরা, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় চাষ করতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। খবর ওয়েস্টার্ন নিউজের।

স্থানীয় কৃষকদের বরাতে জানা গেছে, প্রতি একর জমিতে গড়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে।

কিয়াউকতাও টাউনশিপের এক কৃষক জানান, টানা বৃষ্টিতে ধানগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জমিতে আবারও ধান রোপণ করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে ছোট ধানগাছগুলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় মারা যাচ্ছে। ফসল নষ্ট হলে আবার চাষ করতে হচ্ছে। এর ফলে এমনিতেই বেশি থাকা চাষাবাদের খরচ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাখাইনের কিছু এলাকায় বর্তমানে এক দিনে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ম্রাউক-উ টাউনশিপের আরেক কৃষক জানান, অতিবৃষ্টিতে ধানখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক কৃষককে নতুন করে চারা রোপণ ও বীজ বপন করতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধানের ভালো ফলনের জন্য বৃষ্টি, রোদ ও হালকা বাতাসের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। কিন্তু একটানা অতিবৃষ্টি হলে ধানগাছ তা সহ্য করতে পারে না। ফসল নষ্ট হওয়ার পর পুনরায় চাষ করতে গিয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

রাখাইনের কৃষকরা ২০২১ সাল থেকেই কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির চাপে রয়েছেন। ২০২৪ সালের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু কৃষক ধান চাষের জমির পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন।

এর পাশাপাশি শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিও কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে নতুন করে ধানখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় চাষের জন্য অতিরিক্ত অর্থ, বীজ ও কৃষি উপকরণের প্রয়োজন হওয়ায় রাখাইনের কৃষকদের দুর্ভোগ সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।