মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াইয়ে অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ হামলায় আহত হয়েছে ৩০ জন। শুক্রবার রাজ্যের হপোন নিও লেইক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (ওএইচসিএইচআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে একের পর এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী।

সূত্রের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিদ্রোহী ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের জেরে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৫৫৪ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত বছরে সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ। সংখ্যাটা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ জন বেশি।

এমন সময় এ বিবৃতি প্রকাশ করা হলো, যখন মিয়ানমারের অনেক অঞ্চল সামরিক বাহিনীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, আমি মিয়ানমারের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহস ও সহনশীলতার প্রশংসা করছি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যেকোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

গতকাল বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইনের এলাকাগুলোয় নতুন করে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্ধ স্কুলগুলো গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার তুমব্রু এলাকার বিপরীতে ঢেঁকিবনিয়া বিজিপি সীমান্তচৌকি এলাকায় গোলাগুলির সময় মর্টারশেলের বিস্ফোরিত একটি অংশ শূন্যরেখায় এসে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে সীমান্তের কাছাকাছি বাংলাদেশের ঘুমধুমের পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

-পার্বত্য সময়