মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের কোনো শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেই তাদের জন্ম সনদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৪৫ দিনের মধ্যে ফি ছাড়া নিবন্ধন সনদ সংশোধন ও ভাষান্তর করা যাবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেল জন্ম ও মৃত্যু সনদ সংশোধনের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা পাবেন। এমন বিধান রেখে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। আইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইব্রাহিম বলেন, সংশোধিত আইনে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী অন্য কোনো দেশের নাগরিক এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না। ফলে তারা নিবন্ধনের আওতায়ও আসবে না। তবে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী নাগরিকদের কোনো শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেই তাদের জন্মসনদ দেওয়া হবে। কিন্তু এই শিশুরা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারবে না। তাদের মা-বাবা যে দেশ থেকে এসেছেন, সেই দেশের নাগরিক বলে গণ্য হবে।
সূত্র জানায়, সংশোধিত নতুন আইনে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্মনিবন্ধনের বিষয়টি কড়াকড়ি করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে, 'ব্যক্তি' অর্থ কোনো বাংলাদেশি বা বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো বিদেশি এবং বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী কোনো শরণার্থীকে বোঝানো হয়েছে। সংশোধিত আইনে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী অন্য কোনো দেশের নাগরিক এই 'ব্যক্তি' সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না। ফলে তারা নিবন্ধনের আওতায়ও আসবে না।
এ ছাড়া বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, মৃতুবরণকারী অথবা সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ পর্যন্ত বিদেশে বসবাসরত কোনো বাংলাদেশির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাসের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা নিবন্ধন করতে পারবেন। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, পৌরসভা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী, মৃতুবরণকারী অথবা বসবাসকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক বা তাদের দ্বারা নির্ধারিত ব্যক্তি, ক্ষমতাপ্রদত্ত কোনো কর্মকর্তা বা কাউন্সিলর নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী, মৃতুবরণকারী অথবা বসবাসকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

