তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রার্থী এবং চীনবিরোধী নেতা উইলিয়াম লাই চিং তে। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জয়ের পরপরই গণতন্ত্রের পাশে দাঁড়ানোর এবং স্বশাসিত দ্বীপটিকে (তাইওয়ানকে) চীনের ভীতি প্রদর্শন থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাই।
এবারের নির্বাচনে লাইয়ের অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কুয়োমিনতাং (কেএমটি) পার্টির হউ ইউ ই এবং তাইওয়ান পিপলস পার্টির (টিপিপি) নেতা কো ওয়েন-জে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্যানুসারে, ৪০.১ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন লাই। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হউ ইউ ই ৩৩.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল দাবি করা চীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাইকে ‘ভয়ংকর বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসাবে অভিহিত করে থাকে। লাই চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিকবার কথা বলতে চাইলেও তার এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এমকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়েছে চীন। পর্যায়ক্রমে একটি সম্ভাব্য আক্রমণ সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাইওয়ানের নির্বাচন ঘিরে সরব ছিল চীন। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, নির্বাচনের দিনও তাদের ভূখণ্ডে বেলুন উড়িয়েছে বেইজিং।
লাই নির্বাচনের আগে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা এবং এটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করবেন। নির্বাচনের পরও একই মন্তব্য বজায় রেখেছেন। জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় লাই বলেন, তিনি তাইওয়ানকে রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি তাইওয়া প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখবেন। উইলিয়াম লাইয়ের দল তাইওয়ানকে পুরোপুরিভাবে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল হিসাবে উপস্থাপন করে। একই সঙ্গে এদিন সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে সেটি এখনো জানা যায়নি। যদি কোনো দল এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে প্রতিরক্ষা খরচ ও বিভিন্ন আইন পাশ করাতে হিমশিম খাবেন প্রেসিডেন্ট।
 

-পার্বত্য সময়