সংঘাতপূর্ণ মিয়ানমারের সংকট সমাধানে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে থাইল্যান্ড। জান্তাশাসিত মিয়ানমারে লড়াইরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে একটি নতুন মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জান্তাশাসিত মিয়ানমারের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। থাইল্যান্ডের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসক ফুয়াং কেটকিও সরকারের এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শেষের দিকে মায়া সোট-মিয়াওয়াদি ক্রসিংয়ের কাছে মিয়ানমার সীমান্তে একটি মানবিক নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে থাইল্যান্ড সরকার। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী স্থানীয় সম্প্রদায়সহ সংঘাতে বাস্তুচ্যুত প্রায় ২০ হাজার মানুষের মধ্যে খাদ্য-চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে চায় ।
থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা প্রত্যাশা করেন পরিকল্পনাটি ১০ সদস্যের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে জোরদার করবে। তাদের এ প্রচেষ্টার চূড়ান্ত লক্ষ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা। সংলাপের পথ খোলা।
থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে অস্থিতিশীল দেখতে চাই না। প্রক্রিয়াটি (শান্তি) অবশ্যই কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ হতে হবে।’
এদিকে থাইল্যান্ডের এ উদ্যোগে গত সপ্তাহেই সমর্থন দিয়েছেন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ ছাড়া মিয়ানমারের একজন প্রতিনিধিও উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
সিহাসাক বলেছেন, তাদের এ পরিকল্পনাটি মিয়ানমারের জান্তা এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আলোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে জান্তা এ ধরনের আলোচনায় রাজি হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
সিহাসক ফুয়াংকেটকিও বলেন, মিয়ানমারের সংঘাত নিরসনে লড়াইরত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে তারা। চলমান সংঘাত নিয়ে ইতিমধ্যে মিয়ানমারের আঞ্চলিক কর্মকর্তা, জাতিগত বিদ্রোহী গ্রুপ, চীন, ভারত ও আমেরিকার মতো দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
-পার্বত্য সময়

