দীর্ঘ ৭ বছরের আটকের পর মুক্তি পেয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা এক চুক্তির অধীনে তিনি 'অপরাধ' স্বীকার করেছেন, যার ফলে তাকে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তবে একই সাথে মুক্তিও দেওয়া হবে। চুক্তির পর তিনি ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছেন।
৫২ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ছিল।
গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ব্রিটিশ কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং সেখান থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আপস রফায় পৌঁছানোর পর তিনি মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন বলে উইকিলিকস নিশ্চিত করেছে।
চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির হতে হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া হবে।
এছাড়াও, যুক্তরাজ্যের কারাগারে থাকার সময় তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন তাও তিনি ভোগ করতে পারবেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অ্যাসাঞ্জ তার নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান হলো।
সোমবার (২৪ জুন) জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বালমার্স কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি ১৯০১ দিন ধরে এ কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই বিকেলে তিনি যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাসাঞ্জ। এর মাধ্যমে তিনি একের পর এক গোপন মার্কিন নথিপত্র প্রকাশ করতে থাকেন। ২০১০ সালের জুলাইয়ে উইকিলিকস আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের প্রায় ৭০ হাজার নথি প্রকাশ করেছিল।
এসব তথ্য পরে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এই ঘটনায় বিব্রত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের নথি ফাঁস করে বহু মানুষের জীবনকে হুমকিতে ফেলেছে উইকিলিকস। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করেছিল লন্ডন পুলিশ।
সুত্র : বিবিসি
উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ মুক্তি পেয়েছেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা এক চুক্তির অধীনে তিনি 'অপরাধ' স্বীকার করেছেন, যার ফলে তাকে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তবে একই সাথে মুক্তিও দেওয়া হবে।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
২৫ জুন, ২০২৪ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
