বন তথা আবাস উজাড়, চোরা শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মতো বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর পৃথিবী থেকে কোনো না কোনো বন্য প্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হচ্ছে বা বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোববার (৩ মার্চ) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস’। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০১৪ সালে প্রথম দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের বন্য প্রাণী এবং উদ্ভিদকুল বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই দিবসের মূল লক্ষ্য।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের গবেষণামতে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩১টি। তবে এ সংস্থাটির দাবি বাংলাদেশে ১হাজার ৬০০ এর বেশি প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯০টি একেবারে শেষ হওয়ার পথে।

 পরিবেশ ও প্রাণী নিয়ে কাজ করা সংবাদকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মান্নু বলেন, বন উজাড়ের পাশাপাশি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে বেশি বয়সের গাছ না থাকা এবং খাদ্য সংকটে অস্তিত্ব সংকটে এসব বন্যপ্রাণী। সচেতনতা বৃদ্ধি করে এসব প্রাণীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে সবাইকে।

এ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শাখার সদস্য মিরাজ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে বনাঞ্চলের ধ্বংস ও বন কর্মকর্তাদের উদাসিতায় বন উজাড় হওয়ায় অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, উপকূল থেকে প্রতিবছরই কমছে বন্যপ্রাণী তবে আমরা সচেতন হলে কমে আসবে বিলুপ্তির পরিমাণ।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপকূলীয় বন বিভাগ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশংকাজনকভাবে বন্যপ্রাণীদের উপস্থিতি কমছে। আমরা বন উজাড় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি সবসময়।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণী রক্ষায় ও অবৈধভাবে পাচার প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ২০২৩ সালে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, ফেনীসহ দেশব্যাপী ২৪টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিপন্ন প্রজাতির ভালুক শাবক, হগ ব্যাজার, হনুমান, উল্লুক, রাজধনেশ, কোকিল, টিয়া, ময়না, কাঠবিড়ালি, বানরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
 

পার্বত্য সময়/আরআই