সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় দুইজন, চট্টগ্রামে তিনজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এরা প্রাণ হারান। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষে আরও কয়েক’শ মানুষ আহত হয়েছেন। 
বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুরে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকজন অস্ত্রধারী গুলি করে এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আন্দোলনকারীদের দাবি মতে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের এ হামলায় চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হয়। এদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন মো. ফারুক (৩২) ও মো. ওয়াসিম (২২)। ফারুক একটি আসবাবের দোকানের কর্মচারী এবং ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া আহত অন্তত ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুজহাত ইমুর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানায়, নিহত দুজনের মধ্যে ফারুকের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ওয়াসিমের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত অপরজনের পিঠেও গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে আজ বিকেলে রাজধানীর ঢাকা কলেজের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া ও হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে মানবজমিন। তাদের মধ্যে এক জনের নাম মনির বলে জানা যায়। 
এদিকে রংপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২২) মারা গেছেন। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। আশিকুল আরেফিন নামে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষে শতাধিক আহত হওয়ার খর জানা গেছে।

-পার্বত্য সময়