প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলাম বলেছেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এমআইএসটি’র নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আওতায় জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং এর জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

বক্তৃতায় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি বৈশ্বিক উদ্বেগ, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিদ্যমান ও উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

ড. শামসুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক স্থাপনা, উপকরণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সুরক্ষা এখন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার বিষয়।

তিনি সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে এ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মান, নিরাপত্তা সংস্কৃতি, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, কার্যকর পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

রূপপুর প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুতি, সতর্কতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা এখন বহুমাত্রিক কাঠামোর অংশ, যেখানে শারীরিক সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ হুমকি প্রতিরোধ, জরুরি সাড়া ব্যবস্থা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তৃতা শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

মিস্ট কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের প্রশংসা করেন।

সফরকালে ড. শামসুল ইসলাম মিস্ট শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স ও ড্রোন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গবেষণামুখী কাজের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।