২ এপ্রিল বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে হামলা করে একটি সশস্ত্রগোষ্টী। হামলার পরদিনই রহস্যজনকভাবে ফেসবুকে হুমকি দেয় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। এমন পরিস্থিতে পাহাড়ে মানুষের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। পাহাড় ছেড়ে পালাচ্ছেও সেখানের বাসিন্দারা।
৩ এপ্রিল কেএনএফ তাদের ফেসবুক পোস্টে বিশেষ পোশাক পরিহিত কয়েকজনের ছবি পোস্ট করে তাদের বিশেষ কমান্ডো টিম বলে দাবি করে। সেই সাথে জানায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তাদের এই টিম দ্রুততম সময়ে যেকোনো জায়গায় হামলা করতে প্রস্তুত।
হামলার পর থেকেই কেএনএফ'র দিকে সন্দেহের তীর থাকলেও এই ফেসবুক পোস্ট হামলার সাথে যোগসাজোশের বিষয়টি পরিষ্কার করে দেয় বলে মনে করেন সরকারের নিরাপত্তা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এ সাবেক কর্মকর্তা বলেন, কেএনএফ আসলে এ পোস্টের মাধ্যমে রুমায় হামলার দায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিলো। তারা আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলো। এবং ঠিক পরদিনই আবার অতকির্ত হামলা চালালো। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরও হামলা করতে পারে।
শান্তি আলোচনা চলার পরও তারা কেন এমন হামলা করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি যদি তাদের উত্থান থেকে শুরু করে ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করেন, দেখবেন সরকার আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঠিক রাস্তায় ফেরাতে চেয়েছেন। রাষ্ট্র চাইলে এরকম ছোট একটি দলকে দমন করে ফেলতে পারতো। সরকার মানবাধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখেই হয়তো শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছে। সেই আলোচনা চলার মাঝপথেই তারা এভাবে নিন্দনীয়ভাবে হামলা চালালো। আমার মনে হয়, দেশ কিংবা বিদেশী কোনো পক্ষের উসকানিতে তাদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে ওই এলাকায় তাদের দাপট বাড়াতে চেষ্টা করেছে তারা।
সাংবাদিক হাবীব হাসান মনে করেন, কেএনএফ আলোচনার পূর্ববর্তী সময় থেকেই দুটি আলাদা গ্রুপ সৃষ্টির খবর আমরা পাচ্ছিলাম। শক্তিতে দুর্বল হয়েই তখন তারা সরকারের সাথে আলোচনায় বসে। পরবর্তীতে এমন হতে পারে, তাদের দুই গ্রুপের বিরোধ নিষ্পত্তি করে নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাচ্ছে।
সরকারের কৌশল কি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ এদের ভয় পায়। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে বলেও আমাদের কাছে খবর আসছে। তাদের অপহরণ, গুম-খুন করা হচ্ছে। সরকারের কোনো কৌশল নয়, বরং এই মুহুর্তে যেকোনো উপায়ে এ সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই আগে সাধারণ মানুষের জীবনের কথা ভাবতে হবে। তারা কেন ভিক্টিম হবে?
রুমার বাসিন্দা বনো চাকমা বলেন, আমি আমার ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছি। কেএনএফ এর আগে চাঁদার জন্য আমাকে হুমকি দিয়ে গেছে। আমাকে যেকোনো সময় অপহরণ করতে পারে। আমি যদি মরে যাই, সরকারেরও কিছু হবে না, কেএনএফ'রও কিছু হবে না। আমার স্ত্রী-সন্তানদের কি হবে?
-পার্বত্য সময়

