দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা নির্বাচনের মিছিল-মিটিং ও জনসভায় ব্যবহার করা হতে পারে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের। এছাড়া যেকোনো সময়েই শুরু হতে পারে অস্ত্রের ঝনঝনানি। ফলে সতর্ক থাকতে ইতোমধ্যেই ক্যাম্পগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন এলেই স্বার্থান্বেষী মহল নানা প্রলোভনে ফেলে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করেন। এবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মহলগুলো। তবে রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রলোভন কিংবা বাধ্য করে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এক মাস আগে থেকেই নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনভাবেই যেন রোহিঙ্গাদের এই কাজে জড়ানো না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন মৌসুমে রোহিঙ্গাদের ব্যস্ত রাখতে নেওয়া হয়েছে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। নির্বাচনের দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলবে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএনসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ক্যাম্পের ভিতরে-বাইরে তল্লাসি চৌকিও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। যেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পেই অবস্থান করে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, যারাই রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করার উদ্যোগ নেবে, যথাযথ প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের আব্দুর রশিদ জানান, আমরা রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য মিয়ানমার থেকে এই দেশে পালিয়ে এসেছি। এই দেশ আমাদের ফিরিয়ে না দিয়ে আশ্রয় দিয়েছে। এই দেশের বিশৃংখলা হয় এমন কোন কাজে আমরা জড়াতে পারব না। পাশাপাশি আমাদেরকে যেন কেউ এই কাজে ব্যবহার না করে সে ব্যবস্থা প্রশাসন করলে ভালো হবে।
বালুখালী ক্যাম্পের হামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই দেশের নাগরিক নই। সুতরাং এই দেশের নির্বাচনের মিছিল-মিটিং এ যাওয়া আমাদের উচিত নয়। কেউ যেন টাকার বিনিময়ে এই কাজে না যায়। আমরা নিজেদের মতো সচেতন করছি। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরও যেন কেউ ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে প্রশাসনের।
কুতুপালং ক্যাম্প সংলগ্ন ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এই কাজে না জড়ানোর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রচেষ্টা ও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করা আইনীভাবে অবৈধ। যারা এই কাজে রোহিঙ্গাদের জড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
-পার্বত্য সময়
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যাবহারের আশংকা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন এলেই স্বার্থান্বেষী মহল নানা প্রলোভনে ফেলে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করেন। এবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মহলগুলো। তবে রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রলোভন কিংবা বাধ্য করে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৬:২২ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

উখিয়া রোহিঙ্গ্যা ক্যাম্প ছবি : সংগৃহীত
শেয়ার করুন:
