জাতিসংঘ পদক পেয়েছেন দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী প্রকৌশলীরা। ২৪ জন নারীসহ বাংলাদেশের ২৭৫ জন শান্তিরক্ষীকে তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য জাতিসংঘ পদক প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের হাতে এই পদক তুলে দেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি এবং ইউএনএমআইএসএস-এর প্রধান নিকোলাস হায়সম।
ইয়াম্বিও থেকে তাম্বুরা পর্যন্ত রাস্তাটি বিপর্যয়মূলক আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য এবং তাদের সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের জন্য একটি লাইফলাইন। গত এক বছরে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের সাথে কাজ করা বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা নিরাপত্তা ও মানবিক প্রবেশাধিকার উন্নত করার পাশাপাশি শান্তি বিনির্মাণের জন্য সম্প্রদায়গুলোকে সংযুক্ত করতে এই ১৮৯ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
নিকোলাস হায়সম বলেন, “আপনারা অভূতপূর্ব বন্যা এবং স্বশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কাজটি হাজার হাজার দক্ষিণ সুদানীর জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করেছে। একই সাথে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।”
ইউএনএমআইএসএস-এর দক্ষিণ সেক্টর কমান্ডার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দিনেশ সিং বলেন, “এই কন্টিনজেন্টের সৈন্যরা ধারাবাহিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যতিক্রমী নিষ্ঠা দেখিয়েছে এবং এই প্রচেষ্টার কারণে, তারা ক্রমাগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি একটি আপসহীন প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করে বলা যায় তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ মূল নীতি, মূল্যবোধ এবং নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়।
তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং দায়িত্বের বাইরে দলটি স্থানীয় সম্প্রদায়কে সক্রিয়ভাবে সহায়তা, চিকিৎসা সেবা প্রদান, শিশুদের খেলাধুলার সামগ্রী এবং স্কুল বই বিতরণ, খেলার মাঠ সংস্কার করে যাচ্ছে। শান্তিরক্ষীদের জন্যও এটি একটি ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশি দলের মেজর ফারজানা শারমিন বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সকল মানুষের সাথে, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছি। আমি অন্যান্য দেশের কন্টিনজেন্টদের সংস্কৃতি এবং দক্ষিণ সুদানের জনগণের সংস্কৃতি জানতে পেরেছি। আমি এটিকে আমার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাব এবং আমাদের সকলের মধ্যে ভালবাসা এবং আনন্দ ছড়িয়ে দেব।"
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈন্যদানকারী দেশ। দক্ষিণ সুদানে ৫ জনসহ ১৪৯ জন বাংলাদেশী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে জীবন হারিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন সাকি বলেন, "আপনি একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, হয়তো আপনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে অবশ্যই আলো আসবে এবং আমরা, জাতিসংঘের পতাকাবাহী, আমরা এখানে শান্তি আনতে এসেছি, আমরা এখানে শান্তির জন্য কাজ করতে এসেছি।"
এই বছরের শেষের দিকে দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের একটি নতুন দল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
-পার্বত্য সময়

