জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার লকইর গ্রামের আয়নাল হোসেন কক্সবাজারের উখিয়া আশ্রয়শিবির থেকে নিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করছেন। বিয়ের পর ওই রোহিঙ্গা নারী তার স্বামীর বাড়ি লকইর গ্রামে বসবাস করছেন। আইন বলছে, বাংলাদেশের কোনো স্থায়ী বাসিন্দা রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করতে পারবেন না।

সরেজমিনে লকইর গ্রামের আয়নালের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে থেকে বানদীঘি গ্রামের হারুনুর রশিদ ও সবুজ মিয়া থাকেন কক্সবাজারের রামু উপজেলায়। সেখানে পরিচয় হয় রোহিঙ্গা নারী আয়েশা বেগম ও তার মেয়ে রুমা খাতুনের (২১) সঙ্গে। সবুজ মিয়ার ছেলের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে রুমার বিয়ের কথা হয়। সে অনুযায়ী গত ৯ জানুয়ারি রুমাকে সঙ্গে নিয়ে বানদীঘি গ্রামে আসেন আয়েশা। তিনি সবুজের হাতে সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে দেন। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যান সবুজ।

সবুজকে না পেয়ে হারুনুর ও আয়েশা একই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের লকইর গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে আয়নাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেন। কাবিনের জন্য পাশের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে রুমার নামে ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা।

রুমা বলেন, ‘আমার কী অপরাধ? মা ও হারুন মামা আমাকে এখানে এনে বিয়ে দিয়েছে। মা সবুজ মামাকে বিয়ের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকাও দিয়েছে। সে আমাদের রেখে পালিয়ে গেছে। আমি আয়নালের সঙ্গে ঘর সংসার করতে চাই।’

আয়নালের চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, ‘বলা নেই, কওয়া নেই, বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে হঠাৎ করে আয়নাল বিয়ে করে বউসহ বাড়ি আসে। তাতেই আমার সন্দেহ হয় যে, আয়নাল কোথায় বিয়ে করল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সে রোহিঙ্গা এক মেয়েকে বিয়ে করেছে।’

আয়নাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা মেয়ে জেনেই বিয়ে করেছি। তবে আইন অনুযায়ী যে রোহিঙ্গা মেয়েকে বিয়ে করা যাবে না, তা আমার জানা ছিল না। যা হওয়ার তা হয়েই গেছে। এখন করার কী আছে, আপনারাই বলেন।’

এ বিষয়ে জয়পুরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী রায়হান আলী বলেন, ‘ফরেইনার্স অ্যাক্ট অনুসারে রোহিঙ্গা শরনার্থীরা তাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারে না। এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গাদের বিয়ে করা যাবে না। এ ঘটনায় তারা দুটি অপরাধ করেছেন।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াসিম আল বারী বলেন, ‘জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পুলিশ পৌঁছার আর আগে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মেয়েটি রোহিঙ্গা কি না, তা পুলিশের জানা নেই।’

 

-পার্বত্য সময়