মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে এবার বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিজিপি) ১৭৯ সদস্য। তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ি সীমান্ত পথে তারা বাংলাদেশে আসেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির জামছড়ি সীমান্তের ৪৫ নম্বর পিলারের কাছাকাছি এলাকা হয়ে সোমবার দুপুরে প্রথম দফায় ২৯ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে ঢোকেন। নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির ১১ ব্যাটালিয়নের জামছড়ি সীমান্ত চৌকিতে তারা আশ্রয় চান। বিজিবি সদস্যরা তাদের নিরস্ত্র করে নুরুল আলমের চা বাগানে আশ্রয় দেন। জামছড়ি সীমান্ত অত্যন্ত দুর্গম এলাকা। সেটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে। এর পর রাত ৮টার দিকে আরও ১৪৬ বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে ঢোকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসেন আরও ৪ জন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, “অনুপ্রবেশকারী বিজিপি সদস্যদের অস্ত্র জমা নেওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের হেফাজতে নিয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে সোমবার সকাল-বিকাল মিলিয়ে মোট ১৭৯ বিজিপি সদস্য আশ্রয় নিতে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে।
তাদের দেখে স্থানীয়রা জামছড়ি সীমান্তবর্তী মসজিদ এলাকায় ভিড় জমান। এসময় বিজিপি সদস্যদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গুলি আসে। এর মধ্যে একটি গুলি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাবের আহমেদের শরীরে লাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, “মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে ইউপি সদস্য সাবের আহমেদ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৭৯ জন বিজিপি সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যদের নিরস্ত্র করে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, নতুন করে আসা ১৭৯ জনকে নিরস্ত্র করে জামছড়ি বিজিবি ক্যাম্পের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদের পরবর্তীতে জামছড়ি বিজিবি প্রাইমারি স্কুলে রাখা হবে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের পুনরায় ফেরত পাঠানো হবে। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি, প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছে। এর আগে গত মাসে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল বিজিপির ৩৩০ সদস্য। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়া নৌ-বাহিনীর জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
-পার্বত্য সময়

