নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় রুশমিনা নামে ৩ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচ রোহিঙ্গা শিশুর কেউই আর বেঁচে রইল না।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবশেষ বেঁচে থাকা শিশুটির মৃত্যু হয়।
পাঁচদিন আগে ভাসানচরের ওই ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হল। আর যে পাঁচ শিশু ওই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছিল, তাদের কাউকেই বাঁচানো গেল না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান।
তিনি বলেন, সবশেষ মারা যাওয়ার রোহিঙ্গা শিশু রুশমিনার শ্বাসনালি ও শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিস্ফোরণে দগ্ধ মোট ৭ জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ জন শিশু ছিল। তাদের সবাই মারা গেছে।
জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়। আহতদের প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওইদিনই সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালে আনার পথে রাসেল নামে আড়াই বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোবাশ্বেরা (৪) ও রবি আলম (৫)। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোহেল নামে সাড়ে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। গভীর রাতে মারা যায় রুশমিনা।
যে দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে আমেনা খাতুনের (২৬) শরীরের ৮ শতাংশ এবং জুবাইদার (২৫) শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
-পার্বত্য সময়

