কুসংস্কার, অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে এক সময় রোহিঙ্গা শিবিরে জন্মের হার ছিল বেশি। শিবিরের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই তিন থেকে ১০টি সন্তান। গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে জন্ম নিয়েছে প্রায় দেড় লাখ শিশু। তবে এখন এ পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহ বাড়ছে রোহিঙ্গাদের। শুরুর দিকে কয়েক বছর প্রতি মাসে ৩২ থেকে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর জন্ম হলেও এখন তা গড়ে ২৭- ২৮ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের

কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা। বলেন, শিবিরগুলোতে নিরাপদ এবং সিজারিয়ান ডেলিভারি পর্যাপ্ত না থাকায় শিশু মৃত্যুর হার বেশি। এ সেবা বাড়ানো গেলে জন্মহার আরও কমে আসতো। কুতুপালং দুই ইস্ট রোহিঙ্গা শিবিরের এ ব্লকে স্বামী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ফাতেমা বেগম (৩৫)। ফাতেমা বলেন, ২০১৭ সালে স্বামীর সঙ্গে দুই সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসি। এখানে এসে তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স এখন দেড় বছর। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর সন্তান নেব না। তাই পাঁচ বছরের জন্য গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে 'ইমপ্ল্যান্ট' করিয়েছি।

একই ব্লকের ইমতিয়াজ খাতুন (২১) বলেন, 'বিয়ের পর পরই আমি ইমপ্ল্যান্ট করিয়েছি। ডিপো মারতে চেয়েছিলাম। স্বাস্থ্যকর্মী আপারা মানা করেছেন। আমি তাদের বলেছি, আপনারা যেটি ভালো মনে করেন সেটি দেন। তখন তারা আমাকে ইমপ্ল্যান্ট দেন। এটিকে আমরা ‘সুইচ’ বলি। পরে আমার স্বামী এটি বের করে ফেলতে বললে, বের করে সন্তান নিয়েছি।

বাচ্চা প্রসবের পরে আবারও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন জানিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, সন্তান প্রসবের পর প্রথমে স্বামী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে রাজি হচ্ছিল না, পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে বুঝিয়ে বললে আমার স্বামী রাজি হন।

উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরের জন্ম নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করছে পার্টনার্স ইন হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিএইচডি) নামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। শিবিরজুড়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৭১ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে দাবি এই সংস্থার সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. মো. ড্যানিয়েল হোসাইনের। তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৮-১৯ জন সন্তান আছে এমন পরিবারও দেখেছি। আমরা তাদের বোঝাই একটি পরিবারের সাইজ কি রকম হতে পারে।

 

-পার্বত্য সময়