সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিরোধিতায় আন্দোলনের মধ্যে সব পক্ষকে চার সপ্তাহ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন।
তবে আন্দোলনকারীরা বলছে যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। আর এ আন্দোলন অব্যাহত থাকলে রাজধানীসহ সারাদেশে আরও দীর্ঘদিনের জন্য বিপাকে পড়তে চলেছে শ্রমজীবি মানুষজন।
আদালতের আদেশের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যেসব সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে আজও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আদালতের সঙ্গে আমাদের আজকের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা মূলত নির্বাহী বিভাগের কাছেই কোটা-সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান চাইছি। এক দফা দাবি। এটি আদালতের এখতিয়ার নয়। এটি একমাত্র নির্বাহী বিভাগই পূরণ করতে পারবে। সরকারের কাছ থেকেই আমরা সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করছি।’
এই আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই আদেশের মাধ্যমে সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। আমরা আশাহত হয়েছি। কিন্তু দমে যাইনি। নির্বাহী বিভাগ থেকে কমিশন গঠন করে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সমাধান না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
এমতাবস্থায় সাধারণ শ্রমজীবি মানুষজন আশংকা প্রকাশ করে বলছেন, চলমান এই আন্দোলনের ফলে কর্মস্থলে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। আদালতের আজকের রায়ের পর আন্দোলনকারীরা যদি ঘরে ফিরে না যায়, তাহলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে। ফলে আমাদের দুর্ভোগও আরও দীর্ঘায়িত হবে।
কয়েকজন গাড়িচালক ও নগরবাসী জানান, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সড়ক ব্লক করার প্রভাবে রাজধানীজুড়ে সারা দিন যানজট ছিল। এতে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ নানান শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। আবার যারা বের হয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত গাড়ি বাসায় রেখে রিকশায় চলাচল করছেন।
বাংলামোটর মোড়ে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরিরত ইমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার অফিস বাংলামোটরে। আজ মোহাম্মদপুরের বাসায় যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। তাই আজ গাড়ি ছাড়াই অফিসে এসেছি।’
ফরিদ উদ্দিন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আজ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাস্তা ব্লক করবে। যানজটে চলাচল বন্ধ হতে পারে। এরকম হলে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকাল কোটা আন্দোলনের প্রভাবে ঢাকায় প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। তবে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যানজটে পড়া গাড়িগুলো চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। আজও যানজট নিরসনে আমাদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, আদালতের নির্দেশনায় ছাত্রছাত্রীকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে, অর্থাৎ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে। এখন এই নির্দেশ না মেনে যদি আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যান, তাহলে সমস্যা আরও ঘোলাটে হবে।

-পার্বত্য সময়