দেশ স্বাধীন হওয়ার থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ১১ লাখ ৯২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। যার মধ্যে ০.৪৯ শতাংশ উদ্ধারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। যার পরিমাণ হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (৩ জুন) রাজধানীতে বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে মোট পুঞ্জিভূত কালোটাকার আনুমানিক পরিমাণ হবে ১ কোটি ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে মাত্র ০.৯৮ শতাংশ উদ্ধারের সুপারিশ করছি।
এ ছাড়া আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ করেছে অর্থনীতি সমিতি। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫৭ গুণ বড়।
বিকল্প বাজেট সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও কনফারেন্সে দেশের ৬৪টি জেলা, ১৩৫টি উপজেলা এবং ৪৫টি ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত রয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, প্রতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সোনা ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়ে যাচ্ছে।
বাজুস আরও জানায়, প্রতিদিন দেশের জল, স্থল ও আকাশপথে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণলংকার, সোনার বার, ব্যবহৃত পুরাতন জুয়েলারি ও হীরার অলঙ্কার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে।
কালো টাকা প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতি বলছে, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত ৫০ বছরে কালো টাকা ১ কোটি ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে মাত্র শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ উদ্ধারের সুপারিশ করছি। সেখান থেকেই আহরণ হবে ১০ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ২০ লাখ ৯৪ হাজার ১১২ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ করেছিল বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
এদিকে ৬ জুন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ।

-পার্বত্য সময়