মিয়ানমারের রাখাইনে গৃহযুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা রয়েছে। সেজন্য মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারির সঙ্গে বাড়তি সতর্কতা চলছে। প্রশাসনের এই ব্যস্ততার সুযোগে সীমান্ত এলাকায় বেড়েছে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম।
এদিকে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের নিত্য পণ্যের মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সুযোগে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে হলেও চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশের তমব্রু সীমান্তে চোরাচালান বৃদ্ধির পেছনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কেও দায়ী করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে একটা বড় অংশ বিভাজিত করেছে নাফ নদ। দুই দেশের সীমানা নির্ধারণকারী নাফ নদে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দুটি বাহিনী। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এবং কোস্ট গার্ড যৌথভাগে নাফ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু এই সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজেই বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে মিয়ানমারে।
মিয়ানমারের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। সেখানে ১৩ কেজির এক প্যাকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭০ হাজার কিয়াত যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৭৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি চালের দাম ৭৫০ টাকারও বেশি। এছাড়া তেলের দাম প্রতি লিটার ২২ হাজার কিয়াত বা প্রায় ৮০০ টাকা। একই হারে বেড়েছে ডিজেল, দুধ, ডাল, মরিচ ও পানের সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম।
এসব পণ্যের বিপরীতে দেশে ঢুকছে ইয়াবা-সহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। অভিযোগ আছে, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এ চোরাচালানের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য পাচারের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকে নিজেদের রসদ সংগ্রহ করছে। এছাড়াও আরসা-সহ অন্যান্য বিচ্ছিনতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও এ চোরাচালানের সাথে যুক্ত।
দীর্ঘ সীমান্ত চোরাচালানিদের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালীচক্র নির্বিঘ্নে মাদকসহ চোরাইপণ্য নিয়ে আসছে। চোরাইপণ্য বহনকারীরা মাঝে মধ্যে ধরা পড়লেও মূল হোতারা পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সীমান্তে চোরাকারবার এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। ওপারে (মিয়ানমারে) জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, লাভের পরিমাণ বাড়ছে। মোটামুটি ম্যানেজ করতে পারলেই ব্যবসা করা যায়।
তিনি মূলত সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দিকেই আঙুল তুলেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বান্দরবান এলাকায় যদি আপনি যান সেখানে যে গভীর জঙ্গল সেখানে কিন্তু বিজিপিরও লোক নাই আমাদেরও কিন্তু নাই। ওই এলাকাগুলো দিয়ে চোরাকারবারিরা ঢুকতে পারে। এসব দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানো বা নিয়মিত নজরদারিতে রাখা মুশকিল।
তবে তিনি বিজিবি’র যোগসাজশের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
-পার্বত্য সময়

