অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভের সন্তান মেয়ে জানার পর গর্ভবতী মায়ের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের উদাহরণও রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের ওপর জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

‘ন্যাশনাল গাইডলাইন রিগারডিং প্যারেন্টাল জেন্ডার সিলেকশন ইন বাংলাদেশ’ নামে নীতিমালাতে বলা হয়েছে, অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কোনও লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনও উপায়ে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করতে পারবে না।

নীতিমালাতে আরও বলা হয়েছে–

এক. কোনও ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কোনও লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনও উপায়ে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করতে পারবে না।

দুই. এ বিষয়ে কোনরকম বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না।

তিন. সরকারের মন্ত্রণালয়গুলো ডাক্তার, নার্স, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, টেকনিশিয়ান কর্মীদের নেতিবাচক ফলাফল সম্পর্কে ট্রেনিং দেবে এবং নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণ বিষয়ে ট্রেনিং দেবে।

চার. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মেডিক্যাল সেন্টারগুলো এ সংক্রান্ত সব ধরনের টেস্টের ডাটা সংরক্ষণ রাখবে; এবং

পাঁচ. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মেডিক্যাল সেন্টারগুলো ডিজিটাল ও প্রিন্ট মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা এবং কন্যাশিশুর গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন মেসেজ প্রচার করবে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

আদালত নীতিমালার ওপর শুনানির জন্য ৩০শে জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল।  

এর আগে ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

রিট আবেদনে বলা হয়, ভারতে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হলে প্রসূতি মায়ের মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক চাপে গর্ভপাত করার ঘটনাও ঘটে।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা তৈরি করতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

 

-পার্বত্য সময়