কক্সবাজারের উখিয়ার প্রধান সড়ক থেকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরে প্রবেশের পথে ছোলা, পেঁয়াজু, জিলাপি, বেগুনি, শিঙাড়া-সমুচা, আলুর চপসহ বিভিন্ন ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছে ১০-১৫টি দোকান।

নারী-পুরুষ দোকানে এসে ইফতারের জিনিসপত্র কিনে ঘরে ফিরছেন। কেউ দোকানের সামনে, কেউ ঘরের মেঝেতে গোল হয়ে বসে টমেটো, শসা, কাঁচা মরিচ কাটাকুটি করছেন। এর সাথে একটু আচার আর শর্ষের তেল দিয়ে মাখা হবে মুড়ি। মাগরিবের আজান পড়লেই বিসমিল্লাহ বলে শুরু হবে ইফতার। তবে বেশির ভাগ রোহিঙ্গার ইফতার মসজিদে।

বালুখালী আশ্রয়শিবির এলাকার সড়কের পাশে দোকানে জিলাপি তৈরি করছিলেন সলিম উল্লাহ। জিলাপি কেনার জন্য কিছুটা দূরে অপেক্ষায় কয়েকজন। প্রতি কেজি জিলাপির দাম ২৮০ টাকা। কেউ দুই পিস, কেউ চার পিস করে জিলাপি কিনছেন।

৩৩ বছর বয়সী সলিম উল্লাহ বললেন, নানা পদের খাবার দিয়ে ইফতার করা রোহিঙ্গাদের ঐতিহ্য। আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে খাওয়ানোকে সওয়াবের কাজ মনে করেন তাঁরা। কিন্তু চার-পাঁচ বছর ধরে সাহ্‌রি ও ইফতার ঠিকমতো করতে পারছেন না। কারণ, তাঁরা নিজ দেশে নেই। আর শরণার্থীজীবনে রয়েছে প্রবল অর্থসংকট।

এখানকার আরেকটি দোকানের মালিক নবী হোসেন। তাঁর দোকানে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজু, বেগুনি, শিঙাড়া। একটি পেঁয়াজু এক টাকা, এক চামচ ছোলা ১০ টাকা, একটি বেগুনি পাঁচ টাকা ও একটি আলুর চপ পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুর দিকে দিনে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার ইফতারসামগ্রী বিক্রি হতো, এখন রমজানের মাঝামাঝি এসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকার বেশি হচ্ছে না। তাঁর কথা, রোহিঙ্গাদের হাতে টাকা নেই।

একটি মসজিদের ইমাম সাইফুল ইসলাম বললেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থাকতে যে রোহিঙ্গা গৃহকর্তা শত শত মানুষকে ইফতার করাতেন, আশ্রয়শিবিরে এসে সেই মানুষ অন্যের দেওয়া ইফতারি খেতে মসজিদে আসছেন। আশ্রয়শিবিরে চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছু ফ্রি পাওয়া গেলেও ইফতারসামগ্রী তৈরির জন্য আলাদা করে কোনো বাজেট নেই।

রাখাইন রাজ্যের গজরবিল এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আবদুল জলিল। প্রায় সাত বছর ধরে শালবন আশ্রয়শিবিরে উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। জলিল জানালেন, আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গারা আগে মাসে মাথাপিছু ১২ মার্কিন ডলার অর্থসহায়তা পেত, এখন মাত্র ৮ ডলার পাওয়া যায়। এই টাকায় সংসার চলে না।

রোহিঙ্গার শিবিরের দেখভাল করে সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন, তবে ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। এখানে এসব কাজে বেসরকারি সংস্থারা রোহিঙ্গা পরিবারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে।

 

  • -পার্বত্য সময়