কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে অপহৃত নয় বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও চকরিয়া থানা পুলিশ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে যৌথ অভিযানে শিশুটি—শাহরিয়া জান্নাত মিম (৯)—কে কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ ব্লক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, “অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সদস্যরা চকরিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বিত অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত প্রধান আসামি মুজিব ও তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

চকরিয়া থানার তথ্য অনুযায়ী, মিম স্থানীয় কোরক বিদ্যাপীঠের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় চার মাস ধরে সে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার মোহাম্মদ মুজিব (২১) নামের এক যুবকের কাছে প্রাইভেট পড়ত। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পড়তে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মিমের পিতা সাইফুল ইসলামের মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে জানানো হয়, “আপনার মেয়েকে মুজিব নিয়ে গেছে।” কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে বার্তা আসে—“শিশুটিকে ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে বড় ক্ষতি করা হবে।” এমনকি সেদিন রাতেই নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে ২ লাখ টাকা পাঠানোরও হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর মিমের পিতা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মুজিবের ভাড়া বাসায় গেলে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মুজিব ও তার স্ত্রী সেতেরা বেগম (২০) বাসার আসবাবপত্র সরিয়ে পালিয়েছে। পরদিন সকালে সাইফুল ইসলাম চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া থানা পুলিশ ও ১৪ এপিবিএনের সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার সন্ধ্যায় কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এফ ব্লকে অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রধান আসামি মুজিব ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক স্থানে অভিযান চলছে। মুক্তিপণের বিষয় ছাড়াও অপহরণের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, শিশুর পিতা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মুজিব ও তার স্ত্রী সেতেরা বেগমের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্তরা মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লুকিয়ে রেখেছিল। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, মুজিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগেই কিছু যোগাযোগ ছিল, যা ব্যবহার করেই তারা শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে অপহরণের মতো অপরাধে ব্যবহার করার একটি নতুন প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে।