শান্তি রক্ষা কমিটি বলেছে, বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট করে নেওয়া ১৪টি অস্ত্র ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধ।
শনিবার দুপুরে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লার সভাপতিত্বে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন কমিটির নেতারা।
অনুষ্ঠানে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সভাপতি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লা বলেন, পাহাড়ের শান্তি ফিরিয়ে আনতে জীবনবাজি রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে। আলোচনায় কেএনএফ যেসব দাবি-দাওয়া রেখেছে, সেগুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। সরকার তাদের পুনর্বাসন করারও প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু শান্তি আলোচনাকালে কেএনএফ এভাবে ব্যাংক ডাকাতি, অস্ত্র ও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটাবে সেটি ছিল কল্পনার বাইরে। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চলে গেছে। তাদের এ অপরাধমূলক কার্যকলাপের কারণে বর্তমানে পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বম সম্প্রদায়সহ পাহাড়ের অন্য জাতিগোষ্ঠী।
তিনি বলেন, কেএনএফ যেসব এলাকা স্বায়ত্তশাসন চেয়েছে, সেটি কখনই সম্ভব নয়। তারা যদি এভাবে অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে সেটি বলা মুশকিল। কেএনএফের প্রধান নাথাম বম আলোচনায় না এলে কখনোই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কেএনএফের বিপদগামী সদস্যদের শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী নতুন নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তাই সেসব প্রস্তাবনা নিয়ে সামনে কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পথে এগিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট করে নেওয়া ১৪টি অস্ত্র ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রাংলাই ম্রো বলেন, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে রুমায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বাজার থেকে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি লবণের চেয়ে বেশিকিছু কিনতে পারছে না। পাহাড়ের ভেতরে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। তাই রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করে নেওয়া ১৪টি অস্ত্র অবিলম্বে সরকারি বাহিনীর কাছে ফেরত দিতে কেএনএফের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এসময় বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজার লম বম, ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রাংলাই ম্রো, মারমা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মংসিনু মারমা, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট খুশী রায় ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার বান্দরবান অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক বিরলাল তঞ্চঙ্গ্যা, চাক সমাজ কমিটির সহসভাপতি উচাই হ্লা চাক, খেয়াং সম্প্রদায়ের ম্রাসা খেয়াং, চাকমা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাসহ ১২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা-থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, টাকা-অস্ত্র লুট ও ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণের ঘটনায় কেএনএফের সঙ্গে জড়িত গ্রেফতার ৬৬ জনকে আদালতের নির্দেশে বান্দরবান কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
-পার্বত্য সময়

