পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল এবং সোনালি আঁশ ও বলা হয়ে থাকে। ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ/পাট পণ্যের বাংলাদেশ’ এ স্লোগানে পাটের সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি বিবেচনায় ২০১৬ সালে প্রতিবছর ৬ মার্চ জাতীয়ভাবে পাট দিবস পালনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরের বছর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের রফতানি ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বাড়াতে পাটখাতের আমূল পরিবর্তন করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ জুট মিলস্ করপোরেশনের (বিজিএমসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পাট দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং ক্রেতা আকৃষ্ট হয় এমন ডিজাইন উদ্ভাবন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সরকার গঠনের পরে যতগুলো বক্তৃতা দিয়েছেন প্রত্যেকটিতে পাট ও চামড়া শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার কথা জানান তিনি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক “জাতীয় পাট দিবস-২০২৪” আয়োজনের জন্য আগামী ১০ ও ১১ মার্চ ২০২৪ তারিখ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের “হল অব ফেম” এবং বহুমূখী পাটপণ্য মেলা আয়োজনের জন্য আগামী ০৯-১৩ মার্চ ২০২৪ তারিখ ০৫(পাঁচ) দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সম্মুখ চত্ত্বর (Outer Pavement) সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এর অনুকূলে বিনা ভাড়ায় বরাদ্দ/ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা পাটের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এখন কৃষকদের মধ্যে এটিকে জনপ্রিয় করার কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

ইদানীং চট, বস্তা, পলিথিন ছাড়াও চোখ ধাঁধানো শোপিস, চেয়ার, দরজা, ফুলদানি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, স্যুট-প্যান্ট, চাদর, এমনকি ডেনিমও পাট থেকে তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্য যেমন সৌন্দর্যবর্ধক তেমনি শতভাগ পরিবেশবান্ধব এবং দামও সাধ্যের মধ্যে।

ফলস্বরূপ, এসবের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বিশ্ববাজারের ক্রেতাদের। ফলে নিঃসন্দেহে এ শিল্প দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই দ্রুত বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে পাটের ব্যবহার বহুমুখীকরণ করতে হবে।