মৃত্যুর আগেই নিজেই নিজের কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গায় ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ আলী নামের ১০০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামে। তার ইচ্ছা মৃত্যুর পর ঐ স্থানেই যেন তাকে দাফন করা হয়। সংসার ত্যাগী হয়ে গত তিনদিন ধরে বসবাস শুরু করেছেন সেখানে। মোহাম্মদ আলীর এ কাজে এরই মধ্যে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী নিজের বাড়ির সামনে একটি কবর তৈরি করে সেখানেই বসবাস করছেন। জানা যায়, মোহাম্মদ আলী ৭০ বছর আগে গাজীপুরের চাঁনপুরের আব্দুস সামাদ খন্দকার চাঁনপুরি নামে এক পীরের কাছে মুরিদ হয়েছিলেন। ঐ পীরের আদেশেই তিনি মৃত্যুর আগে কবর স্থান নির্মাণ করেছেন। মোহাম্মদ আলী এক ডজন ছেলে-মেয়ের বাবা।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, মাজার তৈরি করে মোহাম্মদ আলী সেখানেই বসবাস করছেন। এক পীরের মুরিদ হয়ে তিনি এখানে মাজারটি তৈরি করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, মৃত্যুর পর আমাকে এই ঘরেই যেন দাফন করা হয়। আমার পীর সাহেবই আমাকে মাজার তৈরি করতে বলেছেন। জীবিত থাকা অবস্থায় তাই নিজেই নিজের কবরস্থান নির্মাণ করে জায়গা নির্ধারণ করে রাখছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন মিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোহাম্মদ আলীর ইচ্ছা এ মাজারেই তাকে সমাহিত করা হোক।
কিশোরগঞ্জের জামিয়া নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ইসলাম ধর্মের মতে কবরস্থান নির্ধারণ করে সেখানে বসবাসের কোনো নিয়ম নেই। যদি কোনো ব্যক্তি এমনটা করে থাকে তাহলে অবশ্যই সে ব্যক্তির উদ্দেশ্য ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষ কোন জায়গায় মৃত্যুবরণ করবেন সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। সুতরাং পূর্ব থেকে কোনো ব্যক্তি কবরের জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে বসবাস করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই।
-পার্বত্য সময়

