জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে একটি ‘নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে চায়।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং এ-সংক্রান্ত জটিলতা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি দাবি করেন, ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সায়মা ওয়াজেদের ছিল না। তার ভাষায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং সেখান থেকে ‘দুর্নীতির দুর্গন্ধ’ বের হয়ে এসেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডব্লিউএইচওর পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সংকটের সমাধানে একটি বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সংকট নিরসনের বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতেও সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাতিসংঘ সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


