বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে মফিজুর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে তুলে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ফুলতলী ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নিজস্ব বাগান থেকে কাঠ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন মফিজুর। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে অস্ত্রধারী কয়েকজন আরাকান আর্মির সদস্য তুলে নিয়ে যায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে। ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বুধবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ মফিজুর রহমান পেশায় একজন কাঠুরে এবং মৃত পেঠান বলীর ছেলে। তার মা নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার ছেলে প্রতিদিনের মতো বাগানে কাঠ আনতে গিয়েছিল। যাওয়ার আগে আমাকে সালাম করে গিয়েছিল। ওকে আরাকান আর্মির লোকজন ধরে নিয়ে গেছে বলে লোকজন থেকে শুনেছি।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে সীমান্ত এলাকার এক স্কুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ ও মফিজুরের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম আবু তাহের ও জসিম উদ্দিন বলেন, “মফিজ খুব পরিশ্রমী ও নিরীহ ছেলে। কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, বুঝতে পারছি না। আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।”
এ বিষয়ে বিজিবি-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কপিল উদ্দিন কায়েস বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং তাকে ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছি। যেহেতু এটি দুই দেশের বিষয়, তাই কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা আশাবাদী, মফিজকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আনুষ্ঠানিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকছি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
সীমান্তে ক্রমাগত এমন ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ ঘটনায় প্রশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

-পার্বত্য সময়